বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিয়ো মনুমেন্তালে ৮৫,০০০ দর্শকের সামনে শেষ বার খেলতে নামবেন মেসি। বেনিনের বিরুদ্ধে একটি প্রীতিম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। চলতি বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারার কয়েক দিন পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা করেন মেসি। তার পরেই তাঁর জন্য এই বিদায়ী ম্যাচের আয়োজন করে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা।
আপাতত ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলছেন মেসি। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে তাঁর। তবে বাবার মৃত্যুর পর মেসির কথা থেকে ইঙ্গিত, আর বেশি দিন ক্লাবের জার্সিতেও হয়তো দেখা যাবে না তাঁকে। চুক্তি শেষ হলেই হয়তো ক্লাব ফুটবল থেকেও অবসর নিয়ে নেবেন তিনি।
আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে ২০০৫ সাল থেকে খেলছেন মেসি। ২১ বছরের কেরিয়ার শেষ হয়েছে। দেশের হয়ে সর্বাধিক ২০৭ ম্যাচ খেলে সর্বাধিক ১২৫ গোল করেছেন। পাশাপাশি রয়েছে ৬৮ অ্যাসিস্ট। দেশকে একটি ফুটবল বিশ্বকাপ, দু’টি কোপা আমেরিকা ও একটি ফাইনালিসিমা দিয়েছেন।
আরও দু’টি বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে রানার্স হয়েছে আর্জেন্টিনা।
এ বার সময় হয়েছে ব্যাটন উত্তরসূরিদের হাতে তুলে দেওয়ার। বিদায়ী ম্যাচে মেসির সঙ্গে খেলতে দেখা যাবে অ্যাঙ্খেল দি মারিয়াকে। ২০২২ সালে মেসির সঙ্গে যুগলবন্দিতে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি। সেই দলের আরও কয়েক জনকে খেলতে দেখা যাবে এই ম্যাচে। তাঁদের পরিবারের সদস্যেরাও উপস্থিত থাকবেন স্টেডিয়ামে।
বেনিনের বিরুদ্ধে খেলতে দেখা যাবে ফ্রাঙ্কো মাসটানটুয়োনো, লিয়োনেল ফ্লোরেসের মতো তরুণদের। আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে মেসির অভিষেকের সময় তাঁদের জন্মই হয়নি। এ বার তাঁদের সুযোগ দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। এক প্রজন্মের হাত থেকে ব্যাটন যাবে আর এক প্রজন্মের হাতে।
উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, “সকলের জন্য অবিস্মরণীয় এক দিন। সকলেই চাইছে এই ম্যাচের সাক্ষী থাকতে। আমি জানি, সকলে খুব আনন্দ পাবে।” তবে মেসির অভাব কি পূরণ করা সম্ভব? স্কালোনি বলেন, “আমরা সকলে মিলে লিয়োর অভাব পূরণের চেষ্টা করব। একা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।”
মেসি ছাড়া রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওটামেন্ডি, জিয়োভানি লো সেলসোকেও বেনিন ম্যাচের জন্য দলে ডাকা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এটি তাঁদেরও শেষ ম্যাচ। এর পর আর জাতীয় দলে দেখা যাবে না তাঁদের। অর্থাৎ, একটা গোটা প্রজন্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে এক ম্যাচে। আর তারই সাক্ষী থাকতে চাইছে গোটা বিশ্ব। শেষ বার।
