Cricket

হোপের ব্যাটে চুনকামের আশা শেষ ভারতের! জলে গেল রাহুল, রোহিতের ইনিংস, প্রকাশ্যে গম্ভীরের দলের অনেক ফাঁক

হতাশ বিরাট কোহলি (বাঁ দিকে) ও শুভমন গিল। ছবি: পিটিআই।
হতাশ বিরাট কোহলি (বাঁ দিকে) ও শুভমন গিল। ছবি: পিটিআই।
শাই হোপ ভারতের আশাভঙ্গ করলেন। তাঁর অপরাজিত ১৬২ রান ভারতের চুনকামের স্বপ্ন ভেঙে দিল। নিউ চণ্ডীগড়ে লোকেশ রাহুলের ১২৯ ও রোহিত শর্মার ৯২ রানে ভর করে ৩৫১ রান করেও হারতে হল ভারতকে। সিরিজ় জিতলেও ভারতীয় দলের অনেক ফাঁক এই ম্যাচে সামনে এল। দ্রুত তা মেটাতে না পারলে চাপ বাড়তে পারে গৌতম গম্ভীরের।

দু’দিন আগেই গুয়াহাটিতে এক দিনের ক্রিকেটে নিজেদের সর্বাধিক রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। শনিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ও সেই রেকর্ড গড়ল। এর আগে এক দিনের ক্রিকেটে কোনও দিন এত রান তাড়া করতে পারেনি তারা।

গত দুই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বল করেছিল ভারত। সিরিজ় জিতে যাওয়ায় এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শুভমন গিল। শুরুতে পিচে বোলারদের জন্য কিছুটা হলেও সুবিধা ছিল। স্পঞ্জি বাউন্স ছিল। কোনও বল বেশি লাফাচ্ছিল।

পিচের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভারতকে জোড়া ধাক্কা দেন জেইডেন সিলস। পর পর দু’বলে শুভমন (১) ও বিরাট কোহলিকে (০) ফেরান তিনি। ফলে রোহিতকেও নিজের স্বাভাবিক খেলা থেকে বেরাতে হয়। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে জুটি গড়েন তিনি। প্রথম ১০ ওভারে ভারত করে ২৮ রান।

ধীরে ধীরে হাত খোলেন রোহিত। এক বার থিতু হওয়ার পর তাঁর ব্যাট থেকে একের পর এক বড় শট আসে। দেখে মনে হচ্ছিল, গুয়াহাটির পর এই ম্যাচেও শতরান করবেন। কিন্তু ৮৫ বলে ৯২ রানের মাথায় কিমো পলের বলে আউট হন তিনি। রুতুরাজ করেন ৫৭ রান। তবে তাঁর চারটি ক্যাচ পড়ে।

দেখে মনে হচ্ছিল, ২৫০ রান করতেও সমস্যা হবে ভারতের। সেখান থেকে দলকে টেনে তুললেন লোকেশ রাহুল। নমন ধীর, নীতীশ রেড্ডি, অংশুল কম্বোজদের সঙ্গে মিলে দলকে বড় রানে নিয়ে যান তিনি। শতরান করেন রাহুল।

চলতি সিরিজ়ে এই ম্যাচেই প্রথম বার ব্যাট করার সুযোগ পেলেন রাহুল। নিজের জাত চেনালেন। তবে আট নম্বরে ভারতের এমন কাউকে দরকার যিনি ব্যাটটা ভাল করতে পারেন। হার্দিক পাণ্ড্যের অভাব এখনও পূরণ হয়নি। রাহুল তো আর সব ম্য়াচে দলকে বাঁচাবেন না। বিশ্বকাপে এমন হলে সমস্যায় পড়বে ভারত।

শেষ পর্যন্ত ৮৭ বলে অপরাজিত ১২৯ রানের ইনিংস খেললেন রাহুল। ১০টি চার ও ছ’টি ছক্কা মারেন। শেষ তিন ওভারে হাত খোলেন তিনি। ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান করে ভারত।

জবাবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন হোপ। তবে তাঁকে সুযোগ দিল ভারত। তাঁর সহজ ক্যাচ ফেললেন গুরনুর ব্রার। তখন ২০ রানও হয়নি হোপের। সেই ক্যাচ ধরলে খেলার ফল হয়তো অন্য রকম হত।

আগের ম্য়াচে শতরান করা জন ক্যাম্পবেলকে ১০ রানে ফেরান মহম্মদ সিরাজ। তবে আগের ম্যাচের আর এক শতরানকারী আমির জাঙ্গু এই ম্যাচেও ভাল খেললেন। হোপের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি গড়লেন। ৬৭ রানে আউট হন জাঙ্গু।

শিশির পড়ায় ভারতীয় বোলারদের কাজটা আরও কঠিন হচ্ছিল। শারফেন রাদারফোর্ড ও কিমো পলের সঙ্গে ভাল জুটি বাঁধেন হোপ। রাদারফোর্ড ২৪ ও পল ৪৪ রান করেন। অপর প্রান্তে উইকেট পড়লেও এক দিকে টিকেছিলেন হোপ। তাঁকে আউট করতে পারেননি ভারতীয় বোলারেরা।

শেষ দিকে একের পর এক বড় শট খেলে ১০ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে দলকে জেতান হোপ। তিনি নিজে ১৪৩ বলে ১৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। পঞ্চম বোলারের অভাবও বোধ হল ভারতের। মাঝের ওভারে উইকেট তুলতে পারল না তারা। খেসারত দিতে হল দলকে।

এই ম্যাচে বোঝা গেল, হার্দিকের মানের এক অলরাউন্ডার না থাকলে কী কী সমস্যা হতে পারে। ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই সমস্যা হল ভারতের। নীতীশকে হার্দিকের বিকল্প হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যাটিং, বোলিং, কোনওটাই ভাল করতে পারেন না। ফলে সিরিজ় চুনকাম করতে পারল না ভারত। শেষ ম্যাচে হারতে হল গম্ভীরদের।